ঘণ্টায় দাম নেওয়ার একটা কাঠামোগত সমস্যা আছে, আর সেটা রেট কম না বেশি তার সাথে সম্পর্কিত নয়।
আপনি যত ভালো হবেন, একই কাজ তত দ্রুত করবেন। ঘণ্টায় বিল করলে দক্ষতা বাড়ার সরাসরি ফল হলো আয় কমা। পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা দিয়ে যে কাজটা তিন ঘণ্টায় করছেন, নতুন কেউ সেটা বারো ঘণ্টায় করবে — এবং চারগুণ বেশি পাবে।
এটা কোনো নৈতিক সমস্যা নয়, হিসাবের সমস্যা। আর সমাধানটা রেট বাড়ানো নয়, ইউনিট বদলানো।
ঘণ্টা নয়, ফল
ক্লায়েন্ট ঘণ্টা কিনছে না। সে কিনছে একটা কাজ হয়ে যাওয়া — একটা ল্যান্ডিং পেজ যেটা কনভার্ট করে, একটা ড্যাশবোর্ড যেটা তার টিম বুঝতে পারে।
তাই প্রস্তাবটা এভাবে লেখা:
ল্যান্ডিং পেজ ডিজাইন ও বিল্ড — ৪টি সেকশন, রেসপন্সিভ, দুই রাউন্ড রিভিশন। ডেলিভারি ১২ কর্মদিবস। ৳XX,XXX।
"৪০ ঘণ্টা × ৳X" নয়। প্রথমটায় ঝুঁকি আপনার, দ্বিতীয়টায় ঝুঁকি ক্লায়েন্টের — আর ক্লায়েন্ট ঝুঁকি নিতে চায় বলেই আপনাকে ডেকেছে।
সংখ্যা বলার আগে যে প্রশ্নগুলো
দাম বলার আগে অন্তত এই কয়টার উত্তর দরকার। উত্তরগুলো না জেনে দেওয়া প্রতিটা কোটই আসলে একটা অনুমান:
- কে সিদ্ধান্ত নেবে? একজন, না কমিটি? অনুমোদনকারীর সংখ্যার সাথে রিভিশনের সংখ্যা প্রায় রৈখিকভাবে বাড়ে।
- কনটেন্ট কে দেবে? "আপনি লিখে দিন" একটা আলাদা প্রজেক্ট, এবং সেটাই সবচেয়ে বেশি সময় খায়।
- কীসের সাথে যুক্ত হবে? একটা বিদ্যমান কোডবেস, নাকি নতুন? পুরোনো কোডে ঢোকার সময়টা কেউ হিসাব করে না।
- ডেডলাইনটা কার? কোনো ইভেন্ট বা লঞ্চের সাথে বাঁধা থাকলে বাফার বাড়াতে হবে।
- "শেষ" মানে কী? ডিজাইন ফাইল, নাকি ডিপ্লয় করা সাইট? এই একটা প্রশ্নে প্রজেক্টের আকার দ্বিগুণ হতে পারে।
শেষ প্রশ্নটাই সবচেয়ে বেশি টাকা বাঁচায়।
বাফারটা লুকিয়ে রাখবেন না
সবাই বাফার রাখে। বেশিরভাগ মানুষ সেটা রেটের ভেতর লুকিয়ে রাখে, তারপর স্কোপ বাড়লে অস্বস্তিতে পড়ে।
ভালো উপায় হলো সীমাটা লিখে রাখা:
দুই রাউন্ড রিভিশন অন্তর্ভুক্ত। এর পরের প্রতিটি রাউন্ড ৳X,XXX।
এটা ক্লায়েন্টের বিরুদ্ধে নয় — এটা তাকে তথ্য দেয়। এখন সে জানে তৃতীয় রাউন্ডের দাম কত, আর সিদ্ধান্তটা তার হাতে। যেসব প্রজেক্ট তিক্ত হয়, সেগুলোর প্রায় সবগুলোতেই এই লাইনটা ছিল না।
প্রথম সংখ্যাটা কীভাবে বের করবেন
একটা কাজ করা যায়: বছরে যত টাকা দরকার, সেটা থেকে পিছিয়ে হিসাব করুন।
বার্ষিক লক্ষ্য ৳১২,০০,০০০
+ খরচ (সফটওয়্যার, ডিভাইস) ৳১,০০,০০০
+ কর ও অনিশ্চয়তা (~২৫%) ৳৩,২৫,০০০
────────────────────────────────────────
মোট দরকার ৳১৬,২৫,০০০
বিলযোগ্য সপ্তাহ (ছুটি ও ফাঁকা বাদে) ৪০
সপ্তাহে বিলযোগ্য দিন (বাকিটা সেলস, শেখা) ৩
────────────────────────────────────────
বিলযোগ্য দিন ১২০
দৈনিক হার ~৳১৩,৫০০
গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যাটা ৫২ সপ্তাহ নয়, ৪০ এবং ৫ দিন নয়, ৩। প্রস্তাব লেখা, ইমেইল, ইনভয়েস, নতুন কিছু শেখা — এগুলো কাজের অংশ, কিন্তু কেউ এর বিল দেয় না। ৫ দিন ধরে হিসাব করলে আপনি সপ্তাহে সাত দিন কাজ করেও লক্ষ্যে পৌঁছাবেন না।
এই দৈনিক হারটা ক্লায়েন্টকে বলার জন্য নয়। এটা আপনার নিজের জন্য — একটা ফিক্সড প্রাইস দেওয়ার পর যাচাই করার মাপকাঠি।
কম রেটে "পোর্টফোলিওর জন্য" কাজ
মাঝে মাঝে যুক্তিসঙ্গত — শুরুতে, বা এমন একটা কাজ যেটা সত্যিই দেখানোর মতো হবে। কিন্তু তখনও ছাড়টা লিখে রাখুন:
স্বাভাবিক মূল্য ৳XX,XXX। এই প্রজেক্টে ৳XX,XXX — কেস স্টাডি হিসেবে প্রকাশের অনুমতির বিনিময়ে।
কারণ ছাড়টা অদৃশ্য হলে সেটাই আপনার রেট হয়ে যায়। ওই ক্লায়েন্ট পরের প্রজেক্টে একই সংখ্যা আশা করবে, আর সে যাকে রেফার করবে সেও তাই করবে।
শেষ কথা
রেট নিয়ে সবচেয়ে কাজের পরিবর্তনটা আসলে সংখ্যায় নয় — সেটা হলো দাম বলার আগে প্রশ্ন করার অভ্যাস। যে প্রজেক্টগুলোতে লোকসান হয়, সেগুলো কম রেটের কারণে হয় না; হয় এমন একটা স্কোপের কারণে যেটা কেউ শুরুতে লিখে রাখেনি।
সম্পর্কিত লেখা
ওয়েবে বাংলা টাইপোগ্রাফি — যে সমস্যাগুলো নিয়ে কেউ লেখে না
লাইন-হাইট, মাত্রার সংঘর্ষ, uppercase-এর অর্থহীনতা আর ফন্ট ফলব্যাক। ল্যাটিনের জন্য বানানো একটা ডিজাইন সিস্টেমে বাংলা বসাতে গিয়ে যা যা ঠিক করতে হয়েছিল।
ডিজাইন সিস্টেম বানানোর আগে যে ভুলগুলো এড়ানো দরকার
বেশিরভাগ টোকেন সিস্টেম প্রথম রিব্র্যান্ডেই ভেঙে পড়ে। কারণটা প্রায় সবসময় এক — দুইটা লেয়ার আছে, দরকার ছিল তিনটা।
setTimeout(fn, 0) সাথে সাথে চলে না কেন
ম্যাক্রোটাস্ক, মাইক্রোটাস্ক আর রেন্ডারিং — ইভেন্ট লুপের ধাপগুলো জানলে অ্যাসিঙ্ক কোডের ক্রম আর অনুমান করতে হয় না।
One useful email a month
Design system patterns, front-end techniques and case study breakdowns. No promotions, no digest of other people's links.


